বাংলাদেশে যেকোনো বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার জন্য ট্রেড লাইসেন্স থাকা আইনত বাধ্যতামূলক। ঢাকা শহরের ব্যবসাগুলোর জন্য এই লাইসেন্স ইস্যু করে দুটি প্রতিষ্ঠান — আপনার ব্যবসা যে এলাকায় অবস্থিত তার ওপর ভিত্তি করে হয় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (DNCC), নয়তো ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (DSCC)।

কেন ট্রেড লাইসেন্স জরুরি?

ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করলে সিটি কর্পোরেশনের মোবাইল কোর্ট যেকোনো সময় জরিমানা করতে পারে, এমনকি প্রয়োজনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সিলগালাও করে দিতে পারে। এছাড়া ব্যাংকে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা কিংবা ব্যাংক লোনের আবেদনের ক্ষেত্রেও ট্রেড লাইসেন্স একটি অপরিহার্য ডকুমেন্ট।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সাধারণ ট্রেড লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজন হয়: ব্যবসার নাম ও ঠিকানা, ব্যবসা শুরুর তারিখ, মালিকের জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) কপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মোবাইল নাম্বার, এবং সম্ভব হলে টিন সার্টিফিকেট ও দোকানের চুক্তিপত্র বা দলিল। এনআইডি না থাকলে জন্ম নিবন্ধন সনদ বা পাসপোর্ট দিয়েও আবেদন করা যায়।

প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করে

প্রথমে অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হয়। এরপর তথ্য যাচাই করে লাইসেন্স প্রস্তুত করা হয় — সাধারণত ১ থেকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে, জরুরি প্রয়োজনে ১ দিনের মধ্যেও সম্ভব। লাইসেন্স প্রস্তুত হওয়ার পর তা কিউআর কোডের মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়া যায়, এবং যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পরই পেমেন্ট করতে হয়।

ফি কীভাবে নির্ধারিত হয়

ট্রেড লাইসেন্সের ফি বাংলাদেশ সরকারের ট্রেড লাইসেন্স ফি গেজেট, ২০১৬ অনুযায়ী নির্ধারিত হয় — ব্যবসার ক্যাটাগরি ও সাব-ক্যাটাগরি অনুযায়ী এই ফি ভিন্ন হয়। সঠিক ফি জানতে আমাদের ফি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন, যা DNCC ও DSCC উভয়ের জন্যই নির্ভুল হিসাব দেয়।

মেয়াদ ও নবায়ন

ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ এক অর্থবছর পর্যন্ত বলবৎ থাকে এবং প্রতি বছর জুলাই মাসে নবায়ন করতে হয়। আরও বিস্তারিত জানতে আমাদের সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন পেজ দেখুন।